জামায়াতপন্থী ভিসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়নে দেশের আলেম-ওলামাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। অথচ এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে জামায়াতের দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন বর্তমান ভিসি প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম। নিজের সুবিধার্থে বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে বেছে বেছে নিয়োগ দিয়েছেন এক ঝাঁক সাবেক শিবির ও জামায়াতপন্থীদের। শুধু নিয়োগই নয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিভাবে পরিচালিত হবে, কারা নিয়োগ পাবে, কোন মাদরাসার গভর্নিং বডিতে কারা আসবেন সবই নির্ধারিত হচ্ছে জামায়াতে ইসলামির মগবাজার অফিস ও কাটাবন অফিস থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একজন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াতের একচ্ছত্র আধিপত্য, দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা, নিয়োগ, অধিভুক্তি নবায়ন, পাঠদান, স্বীকৃতি নবায়নসহ নানা ইস্যুতে অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে আলেম-ওলামাদের মধ্যে। এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষা উপদেষ্টা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসির চেয়ারম্যান ও সদস্য বরাবর অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর দৈনিক ইনকিলাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতি, আর্থিক ও স্বজনপ্রীতির বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত করে সুপারিশ করার নির্দেশ দিয়েছে। গত বুধবার এক চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাঈমা খন্দকার নির্দেশক্রমে এই অনুরোধ জানান।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেয়ে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এবং জামায়াতের দলীয় কার্যালয় থেকে সুপারিশকৃত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে যে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল তা স্থগিত করার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের এক চিঠিতে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞাপিত সকল পদের জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিতকরণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে দেয়া ইউজিসির চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল নিয়োগে অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে এ বিষয়ে কমিশন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং জনপরিসরে বিতর্ক এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞাপিত সকল পদের জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মো. আব্দুর রশীদ ও প্রো-ভিসি মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মাদরাসা পরিদর্শন, অধিভুক্তি, প্রাথমিক পাঠদান অনুমোদন এবং নিয়োগ প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য ঘুষ দাবির বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনকে অনুরোধ করা হয়।
চিঠি পেয়ে আজ ও আগামীকাল আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল তা স্থগিতের ঘোষণা দেয়া হয়। আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করা হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষার পুননির্ধারিত তারিখ পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়া হবে।
ভিসির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ-
ডীন অলি উল্যাহ’র একক নিয়ন্ত্রণ : এই অভিযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতে ইসলামির সাবেক আমির প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম। প্রশাসনিক যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকলেও জামায়াতের সুপারিশে ভিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় পাওয়ায় তিনি তার নিজ এলাকা ভোলার বন্ধু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া’র আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের প্রফেসর ও জামায়াত নেতা প্রফেসর ড. মোহাম্মদ অলি উল্যাহকে তড়িঘড়ি করে প্রফেসর পদে লিয়েনে নিয়ে আসেন। কোনধরণের নিয়ম-নীতির তোআক্কা না করে এককভাবে তাকে কামিল শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বিভাগের ডীনের দায়িত্ব প্রদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রফেসর অলি উল্যাহ পদবিতে ডীন হলেও ভিসি ও জামায়াতের দলীয় ক্ষমতাবলে বিশ্ববিদ্যালয়ে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ- ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে অন্তত ১০০টি মাদরাসায় অধিভুক্তি নবায়ন, পাঠদান, স্বীকৃতি নবায়নের জন্য পরিদর্শন করেছেন। প্রতি সপ্তাহে অন্তত তিন-চারটি মাদরাসায় প্রিন্সিপাল, ভাইস-প্রিন্সিপাল, মুফাসসির, ফকিহ পদে নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে যান এবং প্রয়োজনে উনার পছন্দের দলীয় লোকদের পাঠান। তিনি কোন মাদরাসায় পাঠদান অথবা নবায়নের জন্য গেলে ৫০ হাজার এবং নিয়োগের জন্য গেলে অন্তত এক লাখ টাকা গাড়ি ভাড়া ছাড় প্রদান করতে হয়। তার চাহিদা অনুযায়ী অর্থ এবং উপঢৌকন হিসেবে ফল, মিষ্টিসহ উক্ত এলাকার প্রসিদ্ধ জিনিস এর তালিকা অনুযায়ী তাকে প্রদান করতে হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গাড়ী ঢাকা মেট্রো চ- ৫৬-০৮২৬ নিয়ম বহির্ভূতভাবে সার্বক্ষণিক ব্যবহার করেন, এমনকি উনার পরিবার-পরিজনের লোকজনও এই গাড়ীটি ব্যবহার করেন। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িটি ব্যবহার করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণের জন্য বিধি বহির্ভূতভাবে টিএ-ডিএ গ্রহণ করেন যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শূণ্য পদে নিয়োগ দিতে মরিয়া : বিভিন্ন মাদরাসার আভ্যন্তরীণ জটিলতা নিরসনের নামে বিবাদমান গ্রুপগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উনার কক্ষে ডেকে আনেন এবং যে পক্ষ উনাকে খুশী করতে পারেন সিদ্ধান্ত যায় তাদের পক্ষে। এ সকল সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট মাদরাসা পরিচালনা এবং মাদরাসা এলাকায় নানাবিধ বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের মামলার উদ্ভব হয়েছে। বিশেষ করে এনটিআরসিএ থেকে প্রিন্সিপাল, ভাইস-প্রিন্সিপাল নিয়োগ হবে এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর প্রফেসর অলি উল্যাহ প্রিন্সিপাল, ভাইস-প্রিন্সিপালদের বিভিন্ন মাদরাসার শূন্য পদ সমূহে জামায়াতের পদধারী ও জামায়াতের ভাবধারার লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। যেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ এ ধরনের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে সেখানে কেবলমাত্র দলীয় লোকজনকে নিয়োগ প্রদানের জন্যই তাড়াহুড়া করে এই ধরনের কার্যক্রম চলছে।
জামায়াতপন্থী হলেই সভাপতি : আইন অনুযায়ী ফাজিল-কামিল মাদরাসা একটি গভর্নিং বডির অধীনে পরিচালিত হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সকল ফাজিল কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডি বাতিল করা হয়। বর্তমানে গভর্নিং বডি গঠন করার প্রক্রিয়া চলমান। নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেক মাদরাসার প্রিন্সিপাল বা ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালগণ সভাপতি বিদ্যুৎসাহী মনোনয়নের জন্য তিনজন করে নামের তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণ করবেন, সেই তালিকা থেকে ভিসি মনোনয়ন প্রদান করেন। বর্তমান বাস্তবতা হলো প্রেরিত তালিকার বিষয়ে ভিসির পিএস সাবেক শিবির ক্যাডার আরিফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট উপজেলা এবং জেলার জামায়াতে ইসলামির আমিরের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন যে, এ সকল তালিকার মধ্যে তাদের মতাদর্শের কেউ আছেন কিনা! যদি জামায়াতে ইসলামি মতাদর্শের কেউ না থাকে তাহলে এর বাইরে থেকে জামায়াতের আমির অথবা তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যক্তিকে সভাপতি অথবা বিদ্যুৎসাহী পদে মনোনয়ন প্রদান করেন। ফলে স্থানীয়ভাবে অনেক জায়গায় যোগ্য প্রকৃত বিদ্যুৎসাহী এবং সভাপতি হওযয়ার যোগ্য ব্যক্তিরা বাদ যাচ্ছেন। এতে করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে।অনেক জায়গায় মামলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগের ভাইভা জামায়াত অফিসে : বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন পদের জন্য বিগত তিন বছরে একাধিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কেবল পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও কাদেরকে এসব পদে নিয়োগ দেয়া হবে তা ইতোমধ্যে তালিকা তৈরিসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় অফিস মগবাজার এবং কাঁটাবনে। সেখানেই দলীয় নেতাকর্মীদের বাছাই করে নেয়া হচ্ছে ভাইভা। আর এটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিধিবহিভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া ডীন প্রফেসর অলি উল্যাহ এবং ভিসির পিএস ও সহকারি রেজিস্টার মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মহসিন হল শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি। এই দু’জন মিলে কোন কোন পদে কাকে নিয়োগ দেয়া হবে, ইতোমধ্যে দলীয় তালিকা অনুযায়ী এবং প্রার্থীদের জামায়াত-শিবিরের পদ অনুযায়ী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিছু কর্মচারী অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত রয়েছেন এবং ফ্যাসিস্ট শাসনামলে নিজ দলের লোকদের স্থায়ী করা হলেও এসব কর্মচারীদের বাইরে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের পতনের পরও ভাগ্যের শিকে ছিড়েনি এসব কর্মচারীদের। বরং নতুন করে বর্তমান জামায়াত নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন আবারো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
দলীয় লোক নিয়োগে বিধি সংশোধন : ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশিদের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট গঠিত কমিটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি চাকরি সংবিধি প্রণয়ন করেন। যেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, ইউজিসির প্রতিনিধিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক এই সংবিধি প্রণয়নের দায়িত্বে ছিলেন। সংবিধি প্রণয়নের চার থেকে পাঁচটি সভা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সংবিধি প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের বিভিন্ন সংশোধনের পর উক্ত চাকরি সংবিধিটি সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত হয়। কিন্তু তৎকালীন ভিসি ও রেজিস্টারের মনপুত না হওয়ায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তা ইউজিসিতে প্রেরণ করা হয়। ইউজিসি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কিছু অবজারভেশন দেয়। এই সুযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন ভয়াবহ দলীয়করণের জন্য বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে জামায়াতে ইসলামির সাবেক পদধারীদের নিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ বিধি সংশোধনের জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই বিধি বহির্ভূত কাজটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ট্রেজারার মামুনুর রহমান খলিলি। কয়েকটি পদে তার নিজস্ব লোক নিয়োগের আশ্বাসে তিনি এই অনিয়মটি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংবিধিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতাকে অন্তর্ভুক্তি করার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে দেশের কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধানে নামকাওয়াস্তে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরির অভিজ্ঞতাকে শিক্ষক -কর্মকর্তা নিয়োগের অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য করা হয় না। শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামির দলীয় লোকজনকে নিয়োগের সুবিধা দেওয়ার জন্য নজির বিহীনভাবে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি সংবিধি সংশোধনের এ পায়তারা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন প্রো-ভিসিসহ ইউজিসির প্রতিনিধির আপত্তিকে পাশ কাটিয়ে ভিসি, ট্রেজারার, ডিন অলি উল্যাহ, রেজিস্টার একতরফাভাবে বিধিবহির্ভূত বিভিন্ন ধারা এই সংবিধিতে সংযোজনের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। এই সংবিধি সংশোধনের দুইটি সভায় সদস্যগণের প্রবল আপত্তির মুখেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী সিন্ডিকেট ট্রেজারার ও ভাইস চ্যান্সেলর এটি অনুমোদনের ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্ট পেশ জামায়াত কার্যালয়ে : ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে তার আইন ও নিয়ম অনুযায়ী এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ব্যক্তি ভিসি অথবা সিন্ডিকটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। কিন্তু বাস্তবতা হলো- এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় জামায়াতের দলীয় অফিসে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের যাবতীয় রিপোর্ট ও দলীয় অফিসে পেশ করতে হয়। এই রিপোর্ট পেশ করার দায়িত্ব ভিসির পিএস আরিফের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, বর্তমান জামায়াতপন্থী প্রশাসনের নির্লজ্জ দলীয়করণের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সকল শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ভয়-ভীতি দেখানোর জন্য ইতোমধ্যে কয়েকজনকে শোকজ ও বরখাস্ত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরতরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
সর্বাধিক পঠিত
খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে তরুণের হাত-পা প্রায় বিচ্ছিন্ন, জামায়াতের ২ কর্মী গ্রেপ্তার
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আবু সুফিয়ান (২২) নামের এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এতে ওই তরুণের দুই হাত ও এক পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে …
জামায়াত কখনো ভারতবিরোধী ছিল না: আমির
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কখনও ‘ভারতবিরোধী ছিল না’ উল্লেখ করে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এটি অপপ্রচার’। তিনি বলেন, ‘জামায়াতকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে সুচিন্তিতভাবে, মিথ্যা ও অপপ্রচার করা হয়েছে।’ …
বারবার ফ্যাসিস্ট বলা পছন্দ করি না, আমি মৌলবাদী না: জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ইউনাইটেড বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমি বারবার ফ্যাসিজম আর ফ্যাসিস্ট বলা পছন্দ করি না। কারণ এরাও তো আমাদের পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক …
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ কোটি টাকা আত্মসাতে জামায়াত নেতারা
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) স্থায়ী তহবিল থেকে অন্তত ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর চার নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আইআইইউসি পরিচালনায় সরকার গঠিত …
কারাবন্দি জামায়াত নেতার বউ নিয়ে শিবির নেতা উধাও
ফেনীতে অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী কারাবন্দি জামায়াত নেতা কামাল হোসেন প্রকাশ লতা কামালের স্ত্রী (২৭) পরকিয়া করে এক শিবির নেতার সাথে উধাও হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি …
মসজিদে তাবলিগ জামাত নিষিদ্ধ ও প্রাণনাশের হুমকি দিলেন জামায়াত নেতা
সিলেট নগরীর দাড়িয়াপাড়াস্থ শাহ গওহর রহ. মসজিদে যুগ যুগ ধরে চলে আসা দাওয়াত ও তাবলিগের কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে জামায়াত নেতা রাজিক মিয়ার নেতৃত্ব। রাজিক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে …
জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে কাজের মেয়েকে ধর্ষণের মামলা
প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান, জামাত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা! কিন্তু তার রয়েছে নি’কৃ’ষ্ট এক অতীত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত একটা খবরে জানা যায়, স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে …
মোদির বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানিয়েছে জামায়াত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীগণের আসন্ন বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানিয়েছে। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ এ …