ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল করা সেই নেতারাই এখন শিবিরের ‘শক্তি’

গুপ্ত-রাজনীতি
চট্টগ্রাম

মোনায়েম শরীফ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জুলাই আন্দোলনের আগে তিনি সক্রিয় ছিলেন ছাত্রদলের রাজনীতিতে। মিছিল, হরতাল, সাংগঠনিক আলোচনায় তার সরব উপস্থিতি ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর রূপবদল করেন তিনি, ভিড়ে যান ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে। বর্তমানে তিনি চবি শাখা শিবিরের শিক্ষা সম্পাদক ও এএফ রহমান হল শিবিরের সাবেক সভাপতি।

অন্যদিকে, শাখাওয়াত হোসেন শিপন ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী। আগে ছাত্রলীগের অঙ্গসংগঠন ভার্সিটি এক্সপ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে। ৫ আগস্টের পর তিনি চবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাকে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের আওয়ামী লীগের এমপি জাফর আলমের সঙ্গেও দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময় একজন শিক্ষকের পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে উপাচার্যের অফিসে বাগবিতণ্ডার ঘটনায় তিনি ভাইরাল হন। এ সময় উপাচার্যের উদ্দেশে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা আওয়ামী দোসরদের পদোন্নতি দিচ্ছেন কেন?’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্ররাজনীতিতে জুলাই আন্দোলনের পর ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ করা নেতারা ইসলামী ছাত্রশিবিরে ভিড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আগে তারা ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মিছিল-সমাবেশে সক্রিয় থাকলেও এখন তারা শিবিরের ‘শক্তি’।

প্রসঙ্গত, সোহরাওয়ার্দী হল শাখার বর্তমান ছাত্রশিবির সভাপতি এনইউ আবরার ফারাবী আগে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক পোস্টে দেখা যায়, একসময় তিনি জামায়াত-শিবিরকে ‘খুনি’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্রলীগে যুক্ত হলেও, পরে তিনি শিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় হন বলে স্বীকার করেছেন। বিষয়টি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ‘সে (মোনায়েম) আমাদের গ্রুপে ২০২৩ সাল থেকে প্রায় দেড় বছর রাজনীতি করেছে। তবে গত ৫ আগস্টের দুই মাস পরে আমরা জানতে পারি সে শিবিরের এএফ রহমান হলের সভাপতি। সে ছাত্রদলের মিটিং, মিছিল, হরতালে সক্রিয় ছিল। এখন সে শিবিরে যোগ দিয়ে রীতিমতো বেইমানি করেছে।’

এ অভিযোগের জবাবে চবি শিবিরের শিক্ষা সম্পাদক মোনায়েম শরীফ সমকালকে বলেন, ‘আমি ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই যুক্ত ছিলাম। এটা সত্য মাঝখানে কিছুদিন ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। হৃদয় ভাইয়ের আন্তরিকতার কারণে ছাত্রদলের কয়েকজনের সঙ্গে হরতালেছিলাম, তবে আমি ছাত্রদলের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলাম না।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিবির তো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ফ্যাসিবাদবিরোধী কিছু করেনি। তখন ছাত্রদলের ৫-৬ জনের সঙ্গে আমি ছিলাম, এটা ছিল একটান কৌশল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন পোস্টে দেখা গেছে, মোনায়েম বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মীর হেলালের অনুসারী হিসাবে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাকে ছাত্রদলের একাধিক মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘গত ১৭ বছর চবিতে শিবিরের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম ছিল না। আমাদের কর্মসূচিতে অনেকে আসে, যায়, তারা যে ছদ্মবেশে এসে যুক্ত হয়েছিল সেটা তো জানতাম না। যখন রঙ বদল করছে তখন ডিগবাজির প্রমাণ পেলাম।’

ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানতে চাইলে শাখাওয়াত হোসেন শিপন সমকালকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে প্রথম দিন থেকেই আমি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তবে হলে থাকাকালীন এলাকার ছেলেরা ডাকলে, সামাজিক কারণে ছাত্রলীগের কয়েকটি প্রোগ্রামে গেছি। আমার কারো সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি চকরিয়ার আওয়ামী লীগের এমপির কাছে ফোরামের কাজের সূত্রে গিয়েছিলাম, তার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক ছিল না।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী শিপনের বিষয়ে বলেন, ‘শিপন এক মাস মতো সোহরাওয়ার্দী হলে ছিল, যেটা ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। হলে তো ছাত্রলীগ করাই লাগতো। তখন ছবি তোলা ও মিটিংয়ে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ছিল। আমাদের সঙ্গে পরিচয়ের পরই সে হল থেকে সরে আসে এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। বরং যখন ছাত্রলীগ বুঝতে পারে, শিপন ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত, তখন তাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। শিপন কখনোই ছাত্রলীগ করেনি। বরং এই ধরণের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার।’

অন্যদিকে, মোনায়েমের বিষয়ে তিনি  বলেন, ‘আন্দোলনের আগে প্রায় সবদলই একসঙ্গে কাজ করত। মিছিল-প্রিকেটিং বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ছিল। তাই সেই সময়ের কিছু কার্যক্রমকে ভিত্তি করে কারও রাজনৈতিক পরিচয় নির্ধারণ করা যাবে না। ছাত্রদল থেকে যে অভিযোগ এসেছে, সেটি ভিত্তিহীন।”

সর্বাধিক পঠিত

কম্বল দেয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে বিধবাকে ধর্ষণ জামায়াত সমর্থকের

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে কম্বল দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে এক বিধবাকে (৪৭) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কাউছার (৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি জামায়াতের সমর্থক বলে এলাকায় পরিচিত। গত রোববার …

খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে তরুণের হাত-পা প্রায় বিচ্ছিন্ন, জামায়াতের ২ কর্মী গ্রেপ্তার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আবু সুফিয়ান (২২) নামের এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এতে ওই তরুণের দুই হাত ও এক পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে …

জামায়াত কখনো ভারতবিরোধী ছিল না: আমির

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কখনও ‘ভারতবিরোধী ছিল না’ উল্লেখ করে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এটি অপপ্রচার’। তিনি বলেন, ‘জামায়াতকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে সুচিন্তিতভাবে, মিথ্যা ও অপপ্রচার করা হয়েছে।’ …

বারবার ফ্যাসিস্ট বলা পছন্দ করি না, আমি মৌলবাদী না: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ইউনাইটেড বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমি বারবার ফ্যাসিজম আর ফ্যাসিস্ট বলা পছন্দ করি না। কারণ এরাও তো আমাদের পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক …

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ কোটি টাকা আত্মসাতে জামায়াত নেতারা

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) স্থায়ী তহবিল থেকে অন্তত ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর চার নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আইআইইউসি পরিচালনায় সরকার গঠিত …

কারাবন্দি জামায়াত নেতার বউ নিয়ে শিবির নেতা উধাও

ফেনীতে অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী কারাবন্দি জামায়াত নেতা কামাল হোসেন প্রকাশ লতা কামালের স্ত্রী (২৭) পরকিয়া করে এক শিবির নেতার সাথে উধাও হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি …

মসজিদে তাবলিগ জামাত নিষিদ্ধ ও প্রাণনাশের হুমকি দিলেন জামায়াত নেতা

সিলেট নগরীর দাড়িয়াপাড়াস্থ শাহ গওহর রহ. মসজিদে যুগ যুগ ধরে চলে আসা দাওয়াত ও তাবলিগের কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে জামায়াত নেতা রাজিক মিয়ার নেতৃত্ব। রাজিক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে …

জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে কাজের মেয়েকে ধর্ষণের মামলা

প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান, জামাত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা! কিন্তু তার রয়েছে নি’কৃ’ষ্ট এক অতীত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত একটা খবরে জানা যায়, স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে …