জামায়াত-শিবির-মওদুদীবাদ সম্পর্কে বহির্বিশ্বের স্কলার, পীর-মাশায়েখ ও মুফতিদের বক্তব্য


জামায়াত-শিবির-মওদুদীবাদ সম্পর্কে বহির্বিশ্বের স্কলার

জামাত-শিবির-মওদুদীবাদ সম্পর্কে বহির্বিশ্বের বিভিন্ন স্কলার, পীর-মাশায়েখ ও মুফতিগণ বিভিন্ন সময় নানা বক্তব্য ও মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। নিম্নে তার মধ্যে কিছু উল্লেখ করা হলো।

১. হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলি থানভি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]

হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলি থানভি একলোক হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলি থানভিকে মওদুদির ‘তরজুমান’ পত্রিকা পড়তে দিলে তিনি কয়েক লাইন পড়ে বলেন,

‘কথাগুলো নাপাকি মিশিয়ে বলা হচ্ছে, বাতেলপন্থীদের কথা এরকমই হয়ে থাকে।’

—একথা বলে পত্রিকা বন্ধ করে রেখে দিলেন।

খাতিমাতুস সাওয়ানিহ কিতাবের ১৪৪ পৃষ্ঠায় আছে, হজরত থানভি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, ‘আমার দিল এ আন্দোলনকে কবুল করে না।’

 

২. শায়খুল ইসলাম সাইয়েদ হোসাইন আহমদ মাদানি

এ দল পথভ্রষ্ট। এর আকিদা-বিশ্বাস আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাত এবং কোরআন-হাদিস বিরোধী। এ দলের সাথে মিলিত হয়ে কাজ করা এবং সাহায্য করা বৈধ নয়। এর প্রচেষ্টা প্রকৃত ইসলামের জন্য নয়, বরং মওদুদি প্রবর্তিত নামধারী এক নতুন ইসলামের জন্য। এদলের লোকেরা সাধারণ মুসলমানদের ধোঁকা দেয়ার জন্য এবং নিজের বাধ্য করার জন্য ইসলাম ও দীনের নাম নিয়ে থাকে। দীনি জ্ঞানে অপারদর্শী লোকেরাই বুঝে যে, এটাই আসল ইসলাম ও দীন। এদের বই-পুস্তিকায় দীনরূপী এমনসব বদদীনি ও নাস্তিকতাপূর্ণ কথাবার্তা রয়েছে, যা বাহ্যিক দৃষ্টিসম্পন্ন ও অজ্ঞ মানুষ বুঝতেই পারে না। মোটকথা, রাসুলুল্লাহ [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিয়ে আসা ইসলাম-যার উপর উম্মাতে মোহাম্মদিয়া সাড়ে তেরশো বছর ধরে আমল করে আসছে, তা থেকে একেবারেই আলাদা। অতএব, এর প্রতিরোধে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

 

৩. মুফতিয়ে আজম মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ

জামায়াতের প্রধান মৌলভি আবুল আলা মওদুদিকে আমি চিনি। সে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেমের ছাত্র কিংবা দীক্ষাপ্রাপ্ত নয়। যদিও তার দৃষ্টিতে নিজ অধ্যয়নের প্রশস্ততা হিসেবে বিস্তৃত, তবে দীনি দিকটা দুর্বল। ইজতেহাদের ভাবও দেখা যায়। এ কারণে তার রচনাবলীতে বড় বড় ওলামা এমনকি সাহাবায়েকেরামের উপরও বহু আপত্তি রয়েছে। তাই মুসলমানদের এ আন্দোলন থেকে দূরে থাকা কর্তব্য এবং এ আন্দোলনের সাথে মেলামেশা, সম্পর্ক ও ঐক্য না রাখা উচিত।

 

৪. তাবলিগি নেসাব প্রণেতা শায়খুল হাদিস জাকারিয়া কান্ধলভি

জামায়াত এবং জামায়াতের সাহিত্য সাধারণ মানুষের উপর এমন প্রভাব বিস্তার করে যে, হেদায়াতের ইমামদের অনুসরণ থেকে স্বাধীন ও সম্পর্কহীন করে দেয়, যা তাদের জন্য ধ্বংস ও পথভ্রষ্টতার কারণ হয়ে থাকে। আমি এই দলে শরিক হওয়া এবং এদের সাহিত্য পড়াকে মুসলমানদের জন্য চূড়ান্ত ক্ষতিকর মনে করি।

 

৫. মুফতিয়ে আজম পাকিস্তান মোহাম্মদ শফি ওসমানি

আমার কাছে মাওলানা মওদুদি সাহেবের মৌলিক ভুল এটাই যে, তিনি আকায়েদ ও মাসায়েলে নিজ ইজতেহাদের অনুসরণ করেন, যদিও তা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামায়ে সালাফের খেলাফ হয়ে থাকে; কিন্তু আমার দৃষ্টিতে ইজতেহাদের স্তরের জন্য যেসব শর্তের প্রয়োজন, তা তার মধ্যে বিদ্যমান নেই। এই বুনিয়াদি ভুলের কারণে তার সাহিত্যে অনেক কথা ভুল এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামায়ে আহলে সুন্নাতের পরিপন্থী।

 

৬. দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান মুফতি সাইয়েদ মাহাদি হাসান

সলমানদের উপর ওয়াজিব হলো, জামায়াতে ইসলামী থেকে দূরে থাকা। এতে শরিক হওয়া জীবননাশকারী বিষপান তুল্য। আর মুসলমানদের উপর ওয়াজিব হলো অপরাপর মুসলমানদেরকে জামায়াতে ইসলামীতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখা, যাতে তারা গোমরাহ না হয়। এ দলের ক্ষতি উপকারের তুলনায় অনেক বেশি। এ ব্যাপারে কোনো ধরনের সহানুভূতি, অবহেলা, অমনযোগিতা প্রদর্শন জায়েজ নয়। এ দলের প্রতি আহ্বান কিংবা এ দলের সাহায্য বা কোনো ধরনের সহায়তা দ্বারা সোয়াবের প্রত্যাশা করা যায় না, বরং এমন ব্যক্তি গোনাহগার ও অবাধ্য হিসেবে গণ্য হবে এবং পাপাচারের প্রতি আহ্বানকারী হিসেবেই পরিগণিত হবে। এ দলের কেউ কোনো মসজিদে ইমামতি করলে তার পেছনে নামাজ পড়া মাকরুহ হবে।

 

৭. মাওলানা গোলাম গাউস হাজারভি

মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানির পরে পাক-ভারতে আরো বহু ফেতনার আবির্ভাব হয়েছে; কিন্তু মওদুদি ফেতনাই তার মাধ্যে সর্বশেষ মারাত্মক ফেতনা। ইসলামের লেবেল থাকার কারণে অশিক্ষিত সাদাসিধে মানুষ এই ফেতনার শিকারে পরিণত হয়ে বসে। দীন সম্পর্কে অজ্ঞ ইংরেজি শিক্ষিত লোকেরাও মওদুদি সাহেবের চটকদার ধোঁকায় পড়ে তার নিজস্ব ব্যাখ্যা ও ইজতেহাদকে প্রকৃত ইসলাম বুঝে বিভ্রান্ত হয়ে থাকে। রাসুল [সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেন, কিছু লোকের ভাষায় জাদুর মতো প্রভাব ফেলে।

 

৮. মোহাদ্দিসে কাবির আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরি

এ সঙ্কটপূর্ণ যুগে সবচেয়ে বড় ফেতনা হলো ইমান ধ্বংসের বিপদ এবং সবচেয়ে বড় খেদমত হলো, এধরনের ফেতনা থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা। মওদুদি সাহেবের পুস্তকাদি, প্রবন্ধাবলি ও লেখার মধ্যে এমন ধরনের ভয়ঙ্কর তত্ত্ব ও ব্যাখ্যা বিদ্যমান, যা দ্বারা নিয়মানুসারে দীনিজ্ঞানের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত নতুন বংশধর কেবল গোমরাহ-পথভ্রষ্টই হবে না, বরং পরিষ্কার কুফুরে পতিত হয়ে যাবে।

 

৯. মুফতি রশিদ আহমদ লুধিয়ানভি

  • জামায়াতে ইসলামী আহলুস সুন্নাহ বহির্ভূত এবং নিজস্ব নির্ধারিত আকায়েদ দ্বারা সাধারণ মুসলমান থেকে পৃথক একটা ফেরকা।

  • তাদেরকে কোনো ধরনের সাহায্য করা জায়েজ নয়।

  • তাদের সাথে আত্মীয়তা করা বৈধ নয়।

  • এমন লোককে ইমাম বানানো জায়েজ নয়। যদি কোনো মসজিদে মওদুদি আকিদার ইমাম থাকে, তাকে বরখাস্ত করার চেষ্টা করা প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের উপর ফরজ। মসজিদের কমিটি যদি এ ইমাম বদলাতে রাজি না হয়, মহল্লাবাসীদের উপর ফরজ হবে এ কমিটি বর্জন করে অপর বিশুদ্ধ আকিদাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা।

 

১০. পাকিস্তানের জামেয়া বিশ্লৌরিয়া আলমিয়া করাচির ফতোয়া

জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও নেতৃবৃন্দ সাধারণত মওদুদি সাহেবের চিন্তাধারা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে তাদের সংবিধান (Constitution) ও ইশতিহার (Manifesto) অভিহিত করে থাকে। দিনরাত তার চিন্তাধারা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রচারে কাজ করছে। অথচ মওদুদি সাহেবের চিন্তাধারা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে জমহুর উলামায়ে কেরাম বিচ্যুত ও গুমরাহির ওপর প্রতিষ্ঠিত ঘোষণা করেছেন। মওদুদি সাহেবের বুনিয়াদি বিচ্যুতি হলো, তিনি আকিদা ও আহকামের ক্ষেত্রে একান্ত নিজস্ব অভিমত ও ইজতিহাদের অনুসরণ করে থাকেন। সেই ইজতিহাদ পূর্ববর্তী জমহুর উলামার বিপরীত হলেও তিনি তোয়াক্কা করেন না। অথচ তাঁর মাঝে ইজতিহাদের অত্যাবশ্যক শর্তগুলো নেই।

এই বুনিয়াদি বিচ্যুতির কারণে তার বইপত্রের অসংখ্য বিষয় ভুল এবং জমহূর উলামায়ে আহলুস সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক। সেখানে মু’তাযিলা মতবাদের দিকে ঝোঁক রয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা ও বিদ্বেষ প্রকট আকারে প্রকাশ পেয়েছে। মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মত আকিদা থেকে স্খলন ঘটেছে। অকপটে কুরআন কারিমের অর্থগত বিকৃতির প্রকাশ ঘটেছে। বিশেষত তার ‘খিলাফত ও মুলুকিয়াত’ গ্রন্থে এমনটি রয়েছে। কয়েকজন সাহাবিকে তিনি শুধু সমালোচনাই করেননি; রীতিমত ভর্ৎসনা করেছেন। যা জমহুর উলামায়ে আহলুস সুন্নাহর নৈতিকতার সুস্পষ্ট বিরোধী। যার কারণে মুসলিম উম্মাহর মাঝে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা-দলাদলি এবং ইসলামের বিভিন্ন বিধান সম্পর্কে দ্বিধা-সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে। দ্বীনের প্রতি অসন্তোষ ও মুক্তচিন্তার ঝোঁক জন্ম নিচ্ছে।

এ কারণে জমহুর উলামায়ে কেরাম মওদুদি সাহেব ও জামাতে ইসলামীকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ থেকে বহিষ্কৃত পৃথক একটি স্বতন্ত্র ফেরকা ঘোষণা করেছেন।

 


উপরোক্ত তথ্যাবলী দারুল হাবিব মাদ্রাসা  হইতে প্রকাশিত “জামাত শিবির মওদুদিবাদ ও উলামায়ে কেরামের সতর্কবাণী” শীর্ষক সংকলন থেকে নেয়া হয়েছে।

 

জামায়াত-শিবির-মওদুদীবাদ সম্পর্কে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের অভিমত

সর্বাধিক পঠিত

কম্বল দেয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে বিধবাকে ধর্ষণ জামায়াত সমর্থকের

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে কম্বল দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে এক বিধবাকে (৪৭) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কাউছার (৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি জামায়াতের সমর্থক বলে এলাকায় পরিচিত। গত রোববার …

খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে তরুণের হাত-পা প্রায় বিচ্ছিন্ন, জামায়াতের ২ কর্মী গ্রেপ্তার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আবু সুফিয়ান (২২) নামের এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এতে ওই তরুণের দুই হাত ও এক পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে …

জামায়াত কখনো ভারতবিরোধী ছিল না: আমির

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কখনও ‘ভারতবিরোধী ছিল না’ উল্লেখ করে দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এটি অপপ্রচার’। তিনি বলেন, ‘জামায়াতকে ভুলভাবে উপস্থাপন করতে সুচিন্তিতভাবে, মিথ্যা ও অপপ্রচার করা হয়েছে।’ …

বারবার ফ্যাসিস্ট বলা পছন্দ করি না, আমি মৌলবাদী না: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ইউনাইটেড বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমি বারবার ফ্যাসিজম আর ফ্যাসিস্ট বলা পছন্দ করি না। কারণ এরাও তো আমাদের পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক …

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ কোটি টাকা আত্মসাতে জামায়াত নেতারা

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) স্থায়ী তহবিল থেকে অন্তত ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর চার নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। আইআইইউসি পরিচালনায় সরকার গঠিত …

কারাবন্দি জামায়াত নেতার বউ নিয়ে শিবির নেতা উধাও

ফেনীতে অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী কারাবন্দি জামায়াত নেতা কামাল হোসেন প্রকাশ লতা কামালের স্ত্রী (২৭) পরকিয়া করে এক শিবির নেতার সাথে উধাও হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি …

মসজিদে তাবলিগ জামাত নিষিদ্ধ ও প্রাণনাশের হুমকি দিলেন জামায়াত নেতা

সিলেট নগরীর দাড়িয়াপাড়াস্থ শাহ গওহর রহ. মসজিদে যুগ যুগ ধরে চলে আসা দাওয়াত ও তাবলিগের কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে জামায়াত নেতা রাজিক মিয়ার নেতৃত্ব। রাজিক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে …

জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে কাজের মেয়েকে ধর্ষণের মামলা

প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান, জামাত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা! কিন্তু তার রয়েছে নি’কৃ’ষ্ট এক অতীত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত একটা খবরে জানা যায়, স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে …